পিলখানা হত্যাকাণ্ড: শহীদ সেনা পরিবারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তারা এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অ্যাডভোকেট উদয় তাসমীর শহীদ সেনা পরিবারের পক্ষে অভিযোগটি দাখিল করেন। তিনি গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর ২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পিলখানা গণহত্যায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ জমা দেন। এতে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিডিআর-এর ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ, কর্নেল মুজিবুর হকের স্ত্রী ফেরদৌসী, কর্নেল কুদরত এলাহীর ছেলে সাকিব রহমানসহ ১৫-২০ জনের পরিবারের সদস্যরা।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। এই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। হত্যাযজ্ঞের মামলার বিচার কাজ হাইকোর্টে সম্পন্ন হলেও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর, হত্যাযজ্ঞের মামলায় বিচারিক আদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। ২৭৮ জন খালাস পান। এরপর হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ জনের ফাঁসি বহাল রাখা হয়, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ৪৫ জন খালাস পায়।

এদিকে, উচ্চ আদালতে খালাস পাওয়া এবং সাজা কমা ৮৩ জনের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করেছে, এবং আসামিপক্ষও লিভ টু আপিল করেছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতীয় স্বাধীন কমিশন বা কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে গত মাসে সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ ও বিপ্লব কুমার পোদ্দার। পরবর্তীতে ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট স্বরাষ্ট্রসচিবকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। তবে, ১৫ ডিসেম্বর জানানো হয় যে, দুটি মামলার বিচারাধীন অবস্থায় জাতীয় স্বাধীন কমিটি গঠন সম্ভব নয়।

এরপর, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই রিট আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়, জানিয়েছে হাইকোর্ট।