প্রচণ্ড গরমে তীব্র পানির কষ্টে ত্রাহি অবস্থায় নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পানি সঙ্কটে চরম কষ্টে তীব্র গরমের মধ্যে রাজধানীবাসীকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। পানির দাবিতে ক্ষুব্ধ মানুষ নেমে আসছে রাস্তায়। মূলত লোডশেডিং, জ্বালানি সঙ্কট এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ঢাকা ওয়াসার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বহুমুখী ধস নামায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে ঢাকায় প্রতিদিন পানির চাহিদা ৩২৫ কোটি লিটার। কিন্তু মাত্র ২৮০ কোটি লিটার উৎপাদন হচ্ছে। ফলে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি লিটার ঘাটতি থাকছে। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র গরমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের পানির অভাবে ত্রাহি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পাশাপাশি চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত পানি সরবরাহে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারগুলোও। ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে পানির সঙ্কট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে রাজধানীর মিরপুর, নুরপুর, পলাশপুর, দক্ষিণ দনিয়া, দক্ষিণগাঁও, শহীদনগর, চান মিয়া হাউজিং, রায়ের বাজার, ভূতের গলি, নর্থ রোড, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, তেজকুনিপাড়া, কড়াইল বস্তি এলাকা, কলাবাগান, পূর্ব মনিপুর, মধ্য মনিপুর, কাঁঠালতলা, পীরেরবাগ, দক্ষিণ রাজারবাগ, বাকপাড়া, হিজলা গলি, কালীবাড়ি, হিন্দুপাড়া, ছায়াবিথী (বাসাবো-১), শাহজাদপুর, গোপীপাড়া, কালাচাঁদপুর, খিলবাড়ীরটেক, আফতাব নগর, ভাটারা, উত্তরা সেক্টর-১১, কামারপাড়া, বনশ্রী-ডি ব­ক, বর্মণটেক, রাজাবাড়ী, উত্তরা সেক্টর-১৩, ৭ ও ৯ নম্বর এলাকায়। রাজধানীর প্রায় আড়াই কোটি মানুষের পানি সরবরাহের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। সংস্থাটির ৭০ শতাংশ পানি এখনো ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আসে। যদিও দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচে কয়েকটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (পানি শোধনাগার) স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ওসব পানি শোধনাগার থেকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত পানি।

 

সূত্র জানায়, প্রতিদিন সাভারের ভাকুর্তার পানি শোধনাগার ১৫ কোটি লিটার তৈরি করা হলেও সেখান থেকে মাত্র ৭ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ওয়াসার নলকূপগুলোর পানির উৎপাদন ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী পানি উত্তোলন হচ্ছে না। বর্তমানে পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধনাগার বাদে বাকি তিনটিতে উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরবরাহ লাইনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় জশলদিয়া প্রকল্পের প্রতিদিন ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ কোটি লিটার। তাছাড়া ঢাকা ওয়াসার এক হাজার ৩৩১টি গভীর নলকূপের মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ২০০টি উৎপাদন বন্ধ। আর লোডশেডিংয়ের কারণে বাধাগ্রস ্ত হচ্ছে ওয়াসার বাকি নলকূপের পানি উৎপাদনও।

 

সূত্র আরো জানায়, রাজধানীতে পানির যে সংকট রয়েছে তা ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব সক্ষমতা দিয়েই মেটানোর সুযোগ রয়েছে। তা হলো পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্প। ওই প্রকল্পের সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার কিন্তু ২৫ কোটি লিটার উৎপাদন করা হচ্ছে। পাইপলাইন স্থাপন না করায় পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া জরুরি। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবস্থাপনায়ও নজর দিতে হবে। শুষ্ম মৌসুমের সংকট মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

 

এদিকে এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রাজধানীতে সাধারণ সময়ে প্রায় ২৯০ কোটি লিটার ঢাকা ওয়াসার পানির চাহিদা থাকে। আর ঢাকা ওয়াসার উৎপাদন সক্ষমতা থাকে ৩১০ কোটি লিটার। কিন্তু গ্রীষ্মে চাহিদা বেড়ে যায় এবং উৎপাদন কমে যায়। তাতে গরম মৌসুমে পানির চাহিদা মেটাতে ঢাকা ওয়াসাকে হিমশিম খেতে হয়। এখন রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা ৩২৫ কোটি লিটার হলেও পানির উৎপাদন সক্ষমতা কমে ২৮০ কোটি লিটারে দাঁড়িয়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পাম্প নষ্ট হওয়াসহ নানা কারণে এ সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। তবে ঢাকা ওয়াসা নিরলসভাবে ঢাকাবাসীর পানির সংকট নিরসনে কাজ করছে।