প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে কোনো ব্রিফিং দিলেন না ভারতীয় হাইকমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কোনো ব্রিফিং না দিয়েই সচিবালয় থেকে বেরিয়ে গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে শুরু হওয়া বৈঠকটি শেষ করে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বেরিয়ে যান।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকরা হাইকমিশনারের বক্তব্যের অপেক্ষায় থাকলেও তিনি কোনো কথা বলেননি। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানানো হয়, দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে এখন কোনো বক্তব্য দেবেন না।

 

ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। গত ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করেন। এর আগে ১২ জুন তিনি ঢাকায় পৌঁছান এবং ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে রোববার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এর আগে ২৯ জুলাইও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি সামনে রেখে রোববার রাজধানীর কুড়িলে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য নির্মিত একটি খেলাঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান।

 

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তারা সম্মান করেন এবং তার বক্তৃতা তিনি একাধিকবার শুনেছেন। তার মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুজনই জনবান্ধব।

 

দুই দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ভালো উল্লেখ করে তিনি সরকার পর্যায়ের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

 

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের মানুষের মূল চাওয়া নিজেদের আত্মসম্মান বজায় রাখা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নেতিবাচকতার বদলে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 

তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার কোনো বক্তব্য দেননি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও আলোচনার বিস্তারিত জানানো হয়নি।