প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বরখাস্ত করলেই ৩০ সেকেন্ডে বিক্ষোভ থামবে: রাহুল গান্ধী

অনলাইন ডেস্ক:

দীপাবলির ভরা মৌসুমে আগামী ১ নভেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ সমাবেশ পেছানোর জন্য নতুন করে তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর আগের আবেদন নাকচ করে দেওয়ার ঠিক একদিন পর তার কাছে ফের চিঠি পাঠিয়েছে চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই)।

সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল রাহুল গান্ধীকে পাঠানো এক সুদীর্ঘ চিঠিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন, আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠемы মহাসমাবেশ দীপাবলির উৎসবের পর সুবিধাজনক অন্য কোনো তারিখে সরিয়ে নিতে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বিশাল সমাগম ঘটতে পারে। দিল্লির ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সর্ববৃহৎ এই সংগঠন সিটিআইয়ের পাঠানো চিঠির একটি অনুলিপি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে জরুরি আলোচনা করেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এর আগে ব্যবসায়ীদের এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার সেই প্রতিক্রিয়ার জবাবে সিটিআই চেয়ারম্যান গোয়েল গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে দীপাবলির কেনাকাটার সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুমের মাঝেই তিনি ১ নভেম্বর ওই নির্ধারিত সমাবেশ করতে অনড় রয়েছেন। কংগ্রেস নেতার এমন ঘোষণায় রামলীলা ময়দান সংলগ্ন আশপাশের প্রায় ২০টি প্রধান বাজারের ব্যবসায়ী মহলে গভীর উদ্বেগ ও চরম হতাশা নেমে এসেছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করলেই কেবল মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এই বিক্ষোভ চিরতরে বন্ধ হতে পারে। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, দিল্লির প্রতিটি ব্যবসায়ীকে বলছি, আমরা আপনাদের গভীর ভালোবাসি এবং আপনাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছি। সরকার আমাদের চলাচলের জন্য মেট্রো বন্ধ করেছে, প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে রেখেছে এবং পুরো রাজধানীকে কার্যত একটি লকডাউনের মধ্যে ফেলেছে। চুরি হয়ে যাওয়া ভোটের এই পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই আর নিরাপদ নয়—না আপনাদের দোকান, না আপনাদের জমানো সঞ্চয়, এমনকি আপনাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও নয়। তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্পষ্টভাবে বলুন ৪ নম্বর অভিযুক্ত জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করতে, তাহলে মোটে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই এই বিক্ষোভ চিরতরে থেমে যাবে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা ও উদ্বেগের মূল কারণ হলো, এই বিশাল মহাসমাবেশের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজধানীতে যেসব কঠোর বিধিনিষেধ বা ট্রাফিক কড়াকড়ি আরোপ করা হবে, তা তাদের ব্যবসার এই স্বর্ণালী মৌসুমকে পুরোপুরি ব্যাহত করবে। ব্যবসায়ী সংগঠনটি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছে যে, আগামী ৩১ অক্টোবরেই কি রাজধানীতে ব্যারিকেড বসানো হবে এবং সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে দেওয়া হবে? বিশেষ করে ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর এই দুই দিন কি তাদের দোকানপাট খোলা রাখা সম্ভব হবে এবং সাধারণ ক্রেতারা কি কোনোভাবেই সেখানে গিয়ে পৌঁছাতে পারবেন?

রাজধানীতে রেকর্ড সংখ্যক যানবাহন প্রবেশের প্রবল সম্ভাবনায় রামলীলা ময়দান ও তার আশপাশের গোটা এলাকা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ বিক্ষুব্ধ মানুষের অংশগ্রহণের জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার বাস রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারে। এর বাইরে যোগ হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত ও বহরের গাড়িগুলো। সিটিআইয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রামলীলা ময়দানের চারপাশটি ঘিরে রয়েছে দিল্লির কয়েকটি বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যিক বাজার। এই ময়দানে যাতায়াতের প্রতিটি প্রবেশপথই মূলত এসব বাজারের ভেতর দিয়েই চলে গেছে। ফলে চাঁদনী চক, ভাগীরথ প্যালেস, খারি বাওলি, সদর বাজার, চাওরি বাজার, কাশ্মীরি গেট, নবী করিম ও করোল বাগের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিটিআইয়ের নিজস্ব হিসাব ও পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে মাত্র ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশের কারণে পুরো মধ্য দিল্লি এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সিলগালা করে দিয়েছিল। সেই সময় মাত্র ওইটুকু সমাবেশেও দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তাদের জোরালো দাবি, আগামী ১ নভেম্বর যদি সত্যিই ১০ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, তবে ঐতিহাসিক পুরান দিল্লির সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য চিরতরে স্থবির হয়ে যাবে এবং এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব হলো, যদি শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক সমাবেশ নির্ধারিত তারিখ থেকে পেছানো একেবারেই সম্ভব না হয়, তবে তা যেন রামলীলা ময়দান থেকে সরিয়ে বুরারি গ্রাউন্ডস কিংবা জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের মতো বিকল্প কোনো খোলা মাঠে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে সরাসরি স্থানীয় বাজারগুলোর ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোটের দেশব্যাপী দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রচারণার একটি অংশ হিসেবেই মূলত আগামী ১ নভেম্বরের এই হাই-ভোল্টেজ মহাসমাবেশটি আহ্বান করা হয়েছে।