নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে তাদের একাডেমিক এবং অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার কার্যক্রমে ব্যবহার করছেন। বিশ্বের দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বিশ্বায়নের যুগে এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি, ‘টিচার্স ওয়ার্ল্ড: জার্নাল অফ এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন সাইফুল ইসলাম এবং এ বি এম নাজমুস সাকিব। তাদের গবেষণায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক এবং ইউটিউবের ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ঢাবির শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইউটিউবকে তাদের একাডেমিক শিক্ষার উন্নতির জন্য ব্যবহৃত করছেন। ১৩০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯২.৩% শিক্ষার্থী ফেসবুক ব্যবহার করে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করছেন এবং মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে একাডেমিক উপকরণ বিনিময় করছেন।
এছাড়া, ইউটিউব শিক্ষার্থীদের জন্য অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ৭৯.২% শিক্ষার্থী ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল, স্পোকেন ইংলিশ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়বস্তু শিখছেন। জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলগুলো যেমন “টেন মিনিট স্কুল”, “ফারজানা ড্রয়িং একাডেমি” এবং “ফাইভ মিনিট ক্রাফটস” শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল শিক্ষামূলক উপকরণের ভাণ্ডার সরবরাহ করছে। অনেক শিক্ষার্থী ইউটিউবকে “সব শিক্ষকের শিক্ষক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোভিড-১৯ মহামারির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহামারির সময় লকডাউনের কারণে, শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে তাদের পাঠক্রম সম্পন্ন করেছেন।
গবেষকরা ভবিষ্যতে আরও সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাডেমিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষায় ভূমিকা বিশ্লেষণের সুপারিশ করেছেন।











