নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে যোগদান করতে হবে তাদের। যোগদানের পর নির্বাচিত শিক্ষকদের পদায়ন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে পেশাগত প্রশিক্ষণ।
রোববার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা নির্ধারিত তারিখে নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। তাদের কাছে যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যোগদানের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত প্রার্থীদের পদায়ন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ ২৯ অক্টোবর নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছিল। ১ আগস্ট, শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক পদায়ন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ২৯ অক্টোবর তাদের যোগদান করানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
পরদিন নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে যোগদানের তারিখ ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হলো। অর্থাৎ আগের ঘোষিত সময়ের চেয়ে ২৮ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে যোগদানের তারিখ।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সনদ যাচাই ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হয়। এরপর তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব প্রক্রিয়ার কারণে নিয়োগ কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিয়োগ ও পদায়নের দাবিতে এর আগে কয়েক দফা অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেছেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তাদের যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হলো।











