জেলা প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি অঞ্চলে বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলচাষিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। উৎসব উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তারা। আশায় বুক বাঁধছেন, সামনে ফুলের দাম আরও বাড়বে এবং লাভজনক ব্যবসা হবে।
ঝিকরগাছার গদখালি, নাভারণ ও পানিসারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রঙিন ফুলের সমারোহ। এখানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গাঁদা, লিলিয়াম, জিপসি, চন্দ্রমল্লিকা সহ অন্তত ১৩ ধরনের ফুল। গদখালির পাইকারি ফুলের বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোর থেকেই কৃষকেরা বাহারি ফুল নিয়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে জমায়েত হচ্ছেন। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ফুলের সরবরাহ বেড়েছে, ফলে কিছু ফুলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গোলাপের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও যে গোলাপ বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা দরে, এখন তা ৮ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুল ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সামনে তিনটি উৎসবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
এদিন বাজারে গোলাপ প্রতিটি ৮-১০ টাকা, জারবেরা ৮-১০ টাকা, রজনীগন্ধা স্টিক ৮-১০ টাকা, জিপসি আঁটি ৪০-৫০ টাকা, গাঁদা প্রতি হাজার ৩০০-৪০০ টাকা, গ্লাডিওলাস ৮-১২ টাকা এবং চন্দ্রমল্লিকা ৩-৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, দামও তত বাড়ছে। ফুলচাষি পলাশ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ১০ কাঠা জমিতে গোলাপ চাষ করেছেন, যার দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। আশা করছেন সামনে দাম আরও বাড়বে এবং ভালো মুনাফা পাবেন। জারবেরা চাষি সোহান হোসেন জানিয়েছেন, তার দুই বিঘা জমির ফুলের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ব্যবসার জন্য ইতিবাচক।
কুষ্টিয়া থেকে ফুল কিনতে আসা ব্যবসায়ী শাকিল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ১৫ হাজার টাকার ফুল কিনেছেন, বিশেষ করে গোলাপের চাহিদা বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি লাভ হবে বলে মনে করছেন তিনি।
গদখালি ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানিয়েছেন, বসন্ত বরণ, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কারণে গদখালির ফুলের বাজার এখন সরগরম। এই তিনটি উৎসবকে কেন্দ্র করে ফুলের বেচাকেনা বেড়ে গেছে, দামও বাড়ছে। কৃষক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী সবাই এতে খুশি। তিনি আশা করছেন, তিনটি উৎসব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
উল্লেখ্য, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি এলাকায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয় এবং প্রায় ৬ হাজার চাষি সরাসরি এ কাজে যুক্ত। দেশের অন্যতম প্রধান ফুল উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যস্ত সময় পার করছে।











