ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

ফ্রিডম ফ্লোটিলার অভিযানে শহিদুল আলমসহ অনেককে আটক করেছে ইসরায়েল

প্রকাশিত: 8 October 2025, 11:48 am
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইসরায়েলি বাহিনী গাজাগামী আন্তর্জাতিক মানবিক নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’কে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম।

ঘটনার পর একটি ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম অভিযোগ করে বলেন, তাঁকে “অপহরণ” করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ভিডিওটিতে তিনি বলেন, “আমাকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তির সহায়তায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।”

বুধবার (৮ অক্টোবর) টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ফ্লোটিলার জাহাজ ও যাত্রীদের আটক করে ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ জানায়, “আইনি নৌ অবরোধ ভেঙে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। যাত্রীরা নিরাপদে আছেন, তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

অন্যদিকে, ফ্রিডম ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং গাজা উপত্যকার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় একাধিক জাহাজ আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ছিলেন ‘কনসেন্স’ নামক একটি জাহাজে, যা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের অংশ। তিনি বলেন, “আমি আমার বন্ধুদের আহ্বান জানাই—ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখুন।”

শহিদুলের ফেসবুক পোস্টে জানা যায়, বুধবার ভোরে বহরটি বিপজ্জনক ‘রেড জোনে’ প্রবেশের কাছাকাছি পৌঁছায়। তিনি লেখেন, “আমরা রেড জোন থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে।”

উল্লেখ্য, এর আগে ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের আরেকটি নৌবহরের শতাধিক যাত্রীকেও আটক করেছিল ইসরায়েল। ওই অভিযানে ৪৭৯ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা একটি শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েল “নিরাপত্তা”র অজুহাতে গাজার দিকে যাওয়া মানবিক সাহায্য ও তথ্যপ্রবাহ রুদ্ধ করছে।

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ চলাকালীন গত দুই বছরে ২৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, আরও অনেকে বন্দী রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নৌবহরের ওপর হামলা শুধু মানবিক সহায়তাকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও একটি ভয়ানক আঘাত।

মন্তব্য করুন