নিজস্ব প্রতিবেদক:
শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ও কালবৈশাখীর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলজুড়ে গাইবান্ধা, নাটোর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও পঞ্চগড়সহ কয়েকটি জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাইবান্ধায়। জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন মারা যান। পৃথক ঘটনায় সাঘাটা উপজেলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। কিছু সূত্রে গাইবান্ধায় মৃতের সংখ্যা পাঁচজন বলা হয়েছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত একজন এবং মারা গেছে একটি গরুও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে যায়, শুরু হয় ঝড়-বৃষ্টি। এ সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় অবস্থানরত কয়েকজনের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটে। এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক নেমে আসে।
গাইবান্ধার বাইরে নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়। জামালপুরের মেলান্দহে দুইজন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে দুইজন এবং বগুড়ার গাবতলীতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকালে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতেও বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে।
দিনভর বিভিন্ন জেলার এসব মৃত্যুর ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে বজ্রপাতের ঝুঁকি ও প্রস্তুতির প্রশ্ন। গ্রামাঞ্চলে খোলা মাঠ, ফসলি জমি কিংবা উন্মুক্ত স্থানে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকায় সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার রাতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। কয়েকটি নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেতও দেখাতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাক-বর্ষার এ সময়ে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ে। তাই আবহাওয়া সতর্কবার্তা মেনে চলা, খোলা স্থানে অবস্থান এড়িয়ে চলা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।











