যৌতুকের জন্য স্ত্রী হত্যা, ১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর স্বামী সায়েদ আহমেদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং সেই অর্থ ভুক্তভোগীর সন্তানের কাছে পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (২৬ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৫ জুন সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকা এবং রেহানার নামে থাকা বাড়ি লিখে দেওয়ার জন্য তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার মা রেজিয়া বেগম মেয়ের বাসায় গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের অভিযোগ, সেদিন সকালে রেহানাকে মারধর করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

 

ঘটনার পর আসামিরা বিষয়টি গোপন করতে রেহানার মৃত্যু স্ট্রোকে হয়েছে বলে দাবি করে দ্রুত দাফন সম্পন্ন করে। পরে রেজিয়া বেগম থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। এরপর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

 

আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হলে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তদন্ত শেষে সিআইডির কর্মকর্তা লুৎফর রহমান সায়েদ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

 

শুনানি শেষে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, “যৌতুকের দাবিতে এই হত্যাকাণ্ড সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।” একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পুত্রকে দিতে হবে।

 

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রত্যাশায় থাকা পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।