বাজেট অধিবেশন শুরু আজ, আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের মাধ্যমে। রোববার (৭ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশনেই আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ অধিবেশনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।

 

বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচিতে সভাপতিমণ্ডলীর মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জরুরি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ নিষ্পত্তির বিষয় রয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ থাকবে।

 

মূল আকর্ষণ অবশ্য আগামী ১১ জুনের অধিবেশন। ওই দিন অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করবেন। এরপর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে বাজেটের ওপর আলোচনা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হবে এবং ১৬ জুন থেকে নতুন বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন বাজেট পাস করার লক্ষ্য রয়েছে।

 

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজেট কার্যক্রম শেষ করতে প্রয়োজন হলে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দুই দফা অধিবেশন পরিচালনা করা হতে পারে।

 

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাজেট ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে।

 

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও বড় পরিকল্পনা থাকছে সরকারের। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ শনিবার (৬ জুন) থেকে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ সব ধরনের শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

 

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী অর্থবছরের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংসদীয় আলোচনা শেষে পাস হওয়া বাজেট আগামী এক বছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।