বিএনপির ঘাঁটি বগুড়ায় প্রশাসক পদে সম্ভাব্যদের নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

জেলা প্রতিনিধি:

বগুড়ার নবসৃষ্ট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে এ নিয়ে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতার নাম সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

স্থানীয় একাধিক পত্রিকা ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলা বিএনপির কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা এবং যুবদল জেলা শাখার প্রভাবশালী সংগঠকদের নাম আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

 

বগুড়া দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছে এ জেলা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে । অনেকেই বলছেন, এমন একজনকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে যিনি প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও রাখেন। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া লক্ষ্য করা গেছে হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তাকে প্রশাসক হিসেবে দেখার দাবি জানিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রচার-প্রচারণা চলছে। অ্যাডভোকেট এ কে মাহবুবুর রহমান বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে তার নামও আলোচনায় রয়েছে। কে. এম. খায়রুল বাশার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আজিজুল হক কলেজের সাবেক ভিপি। তৃণমূলের নেতা হিসেবে তার নামও প্রস্তাব করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তার নাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।

 

মুক্তিযোদ্ধা শোকরানা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে তিনিও প্রশাসক পদের দৌড়ে অন্যতম দাবিদার। অন্যান্য আলোচিত নাম মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল-এর নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্যদের তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণও বিবেচনায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে, সাধারণ জনগণের মধ্যেও প্রশাসক পদে যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নগরীর নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ প্রশাসকের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের আলোচনা কেবল অনুমাননির্ভরই থেকে যাবে। তবুও বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদকে ঘিরে যে রাজনৈতিক গুরুত্ব ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবেই বোঝাচ্ছে এই পদটি আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।