ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

বিক্ষোভে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: আল জাজিরার

প্রকাশিত: 25 July 2025, 10:55 am
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণবিক্ষোভ দমনে ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। তাদের অনুসন্ধানী বিভাগ ‘আই-ইউনিট’ সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গোপন টেলিফোন কথোপকথনের অডিও ফাঁস করে, যা এনটিএমসি (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার) কর্তৃক রেকর্ড করা বলে দাবি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এক মিত্রকে বলেন: “আমি তো আগে থেকেই নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে, যেখানেই পাবে, সেখানেই গুলি করবে… আমি তো এতদিন থামিয়ে রেখেছিলাম, ছাত্রদের কথা ভাবছিলাম।”

ফাঁস হওয়া অডিওতে আরও উল্লেখ আছে, হেলিকপ্টার থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। যদিও সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করে, ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শাবির শরীফ জানান, হেলিকপ্টার থেকে হাসপাতাল লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং বহু ছাত্রের শরীরে অস্বাভাবিক ধরনের বুলেটের ক্ষত ছিল।

ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ জানায়। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) জানায়, বিক্ষোভ দমনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং ২০,০০০ জন আহত হয়েছেন। ICT শেখ হাসিনা, তার দুই মন্ত্রী ও কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেছে। মামলার বিচার শুরু হবে ২০২৫ সালের আগস্টে।

আল জাজিরা জানায়, ফোনালাপ যাচাইয়ে বিশেষজ্ঞরা কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে বক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং কোনো কৃত্রিম পরিবর্তনের প্রমাণ মেলেনি।

গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের জুনে, যখন হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করে। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, এতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারি চাকরিতে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আবু সাঈদ নিহত হলে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। তার মৃত্যুর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে পুলিশের চাপ সৃষ্টির অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে।
সাঈদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তাদের জোর করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে হাসিনা তাদের আর্থিক সহায়তা দেন। কিন্তু সেখানে সাঈদের বোন সরাসরিই বলেন,

“ভিডিওতে তো দেখা গেছে পুলিশ গুলি করেছে। এখানে তদন্তের কী আছে?”

আওয়ামী লীগ এই প্রতিবেদনকে “সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছে এবং বলেছে, শেখ হাসিনা কখনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি।

মন্তব্য করুন