বিদ্যমান আইনেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, প্রার্থিতার সুযোগ থাকছে এমপিও শিক্ষকদের

অনলাইন ডেস্ক:

আইনে আনুষ্ঠানিক সংশোধনী না এলে বিদ্যমান বিধিমালার আলোকেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। ফলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বহাল থাকছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও আইন মন্ত্রণালয়।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রচলিত আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো আইনি বাধা নেই। তবে কমিশন শিক্ষকদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই যদি প্রস্তাবটি আইনে রূপ নেয়, তবেই তাদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধ হবে; অন্যথায় বর্তমান বিধান অনুযায়ীই প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।

আইন সংশোধনের প্রস্তাবে শিক্ষকদের নির্বাচনের বাইরে রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করা এবং ঋণখেলাপিদের সঙ্গে তাদের জামিনদারদেরও অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করেছে ইসি। কমিশনের যুক্তি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে একদিকে দ্বৈত ভূমিকার সৃষ্টি হতে পারে, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতার বিষয়টি স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার নিরিখে দেখতে হবে। এমপিও নীতিমালায় লাভজনক পদে থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের ওপর কোনো সরাসরি আইনি বা নীতিগত নিষেধাজ্ঞা নেই।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, মনোনয়নপত্র জমাদানের দিন পর্যন্ত যে আইন কার্যকর থাকবে, সেটিই প্রার্থিতার ভিত্তি হবে। আইন পরিবর্তন করতে হলে তা অবশ্যই মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই করতে হবে, যাতে সারা দেশে একই নীতি প্রযোজ্য থাকে।

এদিকে পাঁচ ধাপে এবারের ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুসারে, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমে সাত ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের স্বল্পতার কারণে তা কমিয়ে পাঁচ ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। তফসিল ও ভোটের তারিখ নির্ধারণে ঈদ, বিশ্ব ইজতেমা ও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জামানত ও ব্যয়ের সীমায়ও বড় পরিবর্তন এনেছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে জামানতের অঙ্ক পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে এক হাজার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়সীমা পাঁচ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীদের জন্য এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। জামানত ফেরত পাওয়ার নিয়মেও কড়াকড়ি এনে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে ছিল মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ।