বিবাহবিচ্ছেদের পরও কেন খোরপোশের এক টাকাও নেননি মাহি ভিজ?

অনলাইন ডেস্ক:

ভালোবাসার সম্পর্কে দীর্ঘ ১৪ বছর একসঙ্গে কাটিয়ে অবশেষে পথ আলাদা করেছেন জনপ্রিয় তারকা দম্পতি জয় ভানুশালি ও মাহি ভিজ। গত কয়েক মাস আগে তাদের এই দীর্ঘ সংসার জীবনের ইতি ঘটেছে, তবে ঠিক কী কারণে তাদের এই সুখের সংসার ভেঙে গেল তা নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি এই অভিনেত্রী।

ভারতীয় টিভি ধারাবাহিকের অত্যন্ত পরিচিত মুখ মাহি ভিজ ও জয় ভানুশালি। ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও, বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রাক্তন স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ বা ভরণপোষণের কোনো অর্থই গ্রহণ করেননি মাহি।

বর্তমান সময়ে বিতর্কিত জনপ্রিয় টিভি রিয়েলিটি শো বিগ বসের বিশতম আসরে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী মাহি ভিজ। সেখানে শোয়ের ঘরোয়া পরিবেশে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একেবারে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। বিশেষ করে খোরপোশের টাকা না নেওয়া, প্রাক্তন স্বামী জয় এবং সন্তান তারা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এই তারকা।

এ বিষয়ে মাহি ভিজ স্পষ্টভাবে জানান, আমি খোরপোশ হিসেবে এক পয়সাও নিইনি, এমনকি ভরণপোষণের কোনো অর্থও দাবি করিনি। আমি নিজের যোগ্যতায় এই অবস্থানে পৌঁছেছি এবং আমি চাই আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকুক। এমন নয় যে জয় আমাকে কোনো রকম সাহায্য করতে চায় না, কিন্তু আমি কখনোই কারো কাছে হাত পেতে অর্থ চাইতে পারি না। এই সমস্ত অর্থ তার নিজের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত ফসল।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’-এর মতো প্রখ্যাত প্রজেক্ট উপহার দেওয়ার পাশাপাশি মালায়ালাম, তেলেগু ও কন্নড় ভাষার বিভিন্ন সিনেমাতেও সফলভাবে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী মাহি ভিজ।

আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালতে দাঁড়ানোর পর স্বয়ং বিচারকও মাহিকে খোরপোশের অর্থ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। সেই স্মৃতিচারণ করে মাহি ভিজ বলেন, আমি যখন আদালতে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন বিচারক আমাকে চারবার বুঝিয়ে বলেছিলেন—খোরপোশ বা ভরণপোষণের অর্থ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটা যেন আমি আরেকবার পুনর্বিবেচনা করি। তিনি বারবার আমাকে ওই অর্থ গ্রহণ করতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি তা নিইনি, কারণ জয় অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে এই অর্থ উপার্জন করেছে।

প্রাক্তন স্বামী জয় সব ধরনের সহযোগিতা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছেন এবং খোরপোশ বা ভরণপোষণের অর্থ দিতে তার পক্ষ থেকেও বিন্দুমাত্র কোনো আপত্তি নেই। এই প্রসঙ্গে মাহি ভিজ আরও বলেন, এমন নয় যে আমি কোনো কিছু চাইলেই জয় আমাকে সরাসরি না করে দেবে। তার পুরো লকারই আমার জন্য সবসময় উন্মুক্ত। কিন্তু এই অর্থ তো সম্পূর্ণ তার নিজের পরিশ্রমের ফসল। সে প্রতিদিন নিয়মিত ১৬ ঘণ্টা করে পরিশ্রম করে এই অর্থ উপার্জন করেছে।

তাছাড়া বাড়ির বাইরে গিয়ে নিজের মতো জীবন উপভোগ করার জন্যও মাহিকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকেন জয়। এই কথা উল্লেখ করে মাহি ভিজ বলেন, একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে আমার প্রতিদিনের দিনগুলো কীভাবে কেটে যায়, তা শুধু আমিই জানি। বাইরে বেরিয়ে নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য জয় আমাকে সবসময় উৎসাহিত করে। জয় বলে, শুধু মেয়ের কথা ভেবে আমার কেবল ঘরের কোণে বসে থাকা উচিত নয়। কিন্তু আমার পুরো পৃথিবীটাই আমার সন্তানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আমি কোনো প্রকার খোরপোশ বা অ্যালিমোনি নিইনি, বরং আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সবকিছু নিজেই সামলে চলেছি।

দীর্ঘদিনের বিবাহবিচ্ছেদ হলেও জনপ্রিয় অভিনেতা জয়ের সঙ্গে অভিনেত্রী মাহি ভিজের পারস্পরিক বন্ধুত্ব এখনো আগের মতোই অটুট রয়েছে।

এদিকে জয় ও মাহির বিবাহবিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার ঠিক আগে জোর গুঞ্জন রটেছিল যে, মাহি ভিজ নাকি ৫ কোটি রুপি খোরপোশ হিসেবে দাবি করেছেন। এই ভিত্তিহীন খবরে দারুণ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিনেত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, আমার মতে, কোনো পুরুষ যদি নিজে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে, তবে বিবাহবিচ্ছেদের পর সেই অর্জিত অর্থে স্ত্রীর কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না। খোরপোশ তখনই পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত হয়, যখন কোনো নারী সারাজীবন গৃহবধূ হিসেবে সংসার সামলান এবং কখনো কোনো কাজ করেননি। কিন্তু কোনো নারী যদি নিজে কাজ করতে সক্ষম হন, তবে তার নিজেরই স্বাধীনভাবে উপার্জন করা উচিত।

চলتی বছরের গত ৪ জানুয়ারি নিজেদের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন জয় ও মাহি। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়—আজ আমরা জীবন নামের এই দীর্ঘ যাত্রায় সম্পূর্ণ দুটি আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, তবে আমরা সব সময় একে অপরের পাশে বিশ্বস্তভাবে থাকব।

একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে গেলেও নিজেদের সন্তানদের কল্যাণে সর্বতোভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন জয় ও মাহি। যৌথ বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, আমাদের সন্তান তারা, খুশি ও রাজবীরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সেরা বাবা-মা, সেরা বন্ধু এবং ঠিক যতটুকু যা প্রয়োজন—তাদের জন্য ঠিক সেটাই হয়ে ওঠার পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা আমরা বজায় রাখব, যাতে আমরা তাদের জীবনের সঠিক সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারি।

উল্লেখ্য, জয় এবং মাহির এই আকস্মিক বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির বিন্দুমাত্র প্রভাব বা হস্তক্ষেপ নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পষ্ট করে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যদিও আমরা এখন থেকে দুটি আলাদা পথে হাঁটছি, তবে আমাদের এই বাস্তব জীবনের গল্পে কোনো খলনায়ক নেই। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো ধরনের নেতিবাচকতা জড়িয়ে নেই। কোনো ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে দয়া করে আপনারা সবাই জেনে রাখুন, আমরা যেকোনো অপ্রয়োজনীয় নাটকের বদলে মনে শান্তি এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানসিক সুস্থতাকেই বেছে নিয়েছি।

কাগজে-কলমে আর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে না থাকলেও নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্মান ও নিখাদ বন্ধুত্ব বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জয়-মাহি। বিবৃতিতে তারা জানান, আমরা একে অপরকে সবসময় সম্মান জানিয়ে যাব, একে অপরকে বিভিন্ন প্রয়োজনে সমর্থন জুগিয়ে যাব এবং আগের মতোই অটুট বন্ধু হিসেবে পাশে থাকব। পারস্পরিক এই গভীর সম্মানের কথা মাথায় রেখে, আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই কঠিন পথে আপনাদের সকলের কাছ থেকে সম্মান, ভালোবাসাময় ও সদয় আচরণ আন্তরিকভাবে কামনা করছি।

প্রাক্তন স্বামী জয় ও নিজের বায়োলজিক্যাল কন্যা তারা, এছাড়া দত্তক নেওয়া পুত্র রাজবীর ও কন্যা খুশির সঙ্গে অভিনেত্রী মাহি ভিজের অত্যন্ত আনন্দঘন ও সুখের কিছু মুহূর্তের ছবি আজও অনুরাগীদের মনে দাগ কাটে।

সবশেষে উল্লেখ করা যায়, ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জনপ্রিয় জুটি মাহি ভিজ ও জয় ভানুশালি। অত্যন্ত ঘরোয়া এবং চমৎকার আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এই তারকা দম্পতির ‘তারা’ নামে অত্যন্ত আদরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে রাজবীর এবং খুশি নামের আরও দুটি সন্তানকে নিজ দায়িত্বে দত্তক নিয়েছিলেন এই জনপ্রিয় দম্পতি।