অনলাইন ডেস্ক:
নেইমার জুনিয়রের জন্য এই যাত্রাটা ছিল অনেক অপেক্ষা শেষে আরাধ্য কিছু। গত ১৯ মে কার্লো আনচেলত্তি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতেই নিজের নাম দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠেছিল নেইমারের, চোটে পড়ার পর বারবার ফুটবল মাঠে ফিরলেও ব্রাজিলের স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে দোলাচল ছিল। আনচেলত্তির তালিকায় জায়গা পাওয়ার পর নতুন চোট পেয়েছেন, সেটি সঙ্গী করেই ধরেছেন বিশ্বকাপের বিমান। বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ব্রাজিল জাতীয় দলের বিমানে সতীর্থদের সঙ্গে একটি ছবি দিয়েছেন নেইমার। যেখানে দুই শব্দের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘সবাই মিলে।’ মাঠেও সম্ভবত সবাইকে নিয়েই ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় টুর্নামেন্টটা রাঙাতে চাইবেন ব্রাজিলের এই সর্বোচ্চ গোলদাতা। যদিও চোট কাটিয়ে তিনি কবে মাঠে ফিরবেন তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে নেইমার নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে নামতে যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন সেই প্রমাণ অতীতেও অনেক দিয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো’র তথ্যমতে, গত সোমবার রাতে (স্থানীয় সময়) নিউজার্সির উদ্দেশে সান্তোস স্ট্রাইকারকে নিয়ে উড়াল দিয়েছে দেশটির বিশ্বকাপ দলে থাকা খেলোয়াড়রা। তবে সেখানে ছিলেন ২৩ ফুটবলার, বাকি তিনজন অনুপস্থিত। কারণটা অবশ্য আগে থেকেই জানা ছিল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল হয়েছে গত ৩০ মে মধ্যরাতে। যে কারণে ব্রাজিলের তিন ফুটবলার সেই ম্যাচ শেষে পরে জাতীয় দলের স্কোয়াডে যুক্ত হওয়ার কথা। ফলে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপাজয়ী পিএসজির মার্কিনিয়োস এবং রানারআপ আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ বিমানে নেই। নেইমারের ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ছবিটি তুলেছেন বিমানের ভেতর। পাশাপাশি ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের জাদুঘরে থাকা একটি বিশ্বকাপ ট্রফির ছবিও তাতে যুক্ত করে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই সান্তোস ফরোয়ার্ড। আনচেলত্তির শিষ্যরা রিও ডি জেনিরোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। একই ছবি দিয়ে ব্রাজিলের আরেক তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াও প্রায় হুবহু ক্যাপশন দিয়েছেন, ‘চলো সবাই মিলে।’ গত রোববার দিবাগত রাতে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ভূমিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ঐতিহাসিক মারাকানায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিল ৬-২ গোলে উড়িয়ে দেয় পানামাকে। এখনও চোট পুনর্বাসনে থাকায় নেইমার সেই ম্যাচ খেলেননি। তবুও তার নাম ধরে স্লোগান দিয়েছেন ভক্তরা। এমনকি কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মাঝেও তারা বিমানবন্দরে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের অটোগ্রাফ নিতে ছুটেছেন। সফল হয়েছেন কেউ কেউ।











