ভারতের হামলায় পাকিস্তানে ৫১ জন নিহত, সেনা বৈঠকে উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক:

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভারতের সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলায় দেশটিতে ১১ জন সেনাসদস্যসহ অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এই হামলাকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘উসকানিমূলক ও কাপুরুষোচিত’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ৬ ও ৭ মে রাতজুড়ে ভারতের সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় হামলা চালায়। এতে ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন নারী ও ১৫ জন শিশু।
এছাড়া হামলায় ১২১ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০ জন নারী ও ২৭ শিশু রয়েছেন। পাকিস্তানের দাবি, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল নিরীহ গ্রামবাসী।

আইএসপিআরের আরও দাবি, হামলার প্রতিরোধে পাক সেনাবাহিনীর ১১ সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৮ জন।

হামলার ঘটনার দিনই অনুষ্ঠিত হয় ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চ পর্যায়ের সামরিক বৈঠক। সন্ধ্যা ৫টায় শুরু হওয়া বৈঠকে অংশ নেন দুই দেশের ডিজিএমও (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন)।
ভারতের পক্ষ থেকে ছিলেন রাজীব ঘাই এবং পাকিস্তানের পক্ষে কাশিফ আবদুল্লাহ।

বৈঠকে উভয় দেশ আর কোনো গুলি চালাবে না এবং একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে — এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে বৈঠকটি নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টায় হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয়েছে সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সেনা কমানো নিয়ে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও হতাহতের প্রেক্ষাপটে সেনা হ্রাসের সম্ভাবনা দ্বিপাক্ষিক শান্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।