মাজারের খাদেম হত্যা মামলায় দুই জেএমবির মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের কাউনিয়ায় সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ফলে এই মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল থাকল।

 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসাইনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী এবং লিটন মিয়া ওরফে রফিক।

 

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।

 

যেভাবে হত্যা করা হয়

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চৈতার মোড় এলাকায় নিজের বাড়ির দরবার শরিফে রহমত আলীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত রহমত আলীর বয়স ছিল ৬০ বছর। তিনি তরিকাপন্থি সুরেশ্বরী পীরের অনুসারী ছিলেন এবং নিজের বাড়িতেই দরবার শরিফ পরিচালনা করতেন।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জেএমবি সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে রহমত আলীকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ১১ নভেম্বর নিহতের ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দেয়। তদন্তে জেএমবি সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। মামলার কয়েকজন আসামি জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলাসহ অন্য জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মামলারও আসামি ছিলেন।

 

নিম্ন আদালতের রায়

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালত মামলার রায় দেন। আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার ১৩ আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং ছয়জনকে খালাস দেন।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি ছিলেন মাসুদ রানা, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন, সরওয়ার হোসেন, বিজয় ও চান্দু মিয়া।

 

অন্যদিকে নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ছয়জন হলেন আবু সাঈদ, তৌফিকুল ইসলাম সবুজ, সাদাত ওরফে রতন মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার এবং রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, চান্দু মিয়া ও রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন।

 

হাইকোর্টে আপিল ও মৃত্যুদণ্ডের রায়

নিম্ন আদালতের রায়ের পর সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এসব আবেদন ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে রোববার রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।

 

হাইকোর্ট মাসুদ রানা ও লিটন মিয়ার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপর পাঁচ আসামি ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন, সরওয়ার হোসেন সাবু, বিজয় ও চান্দু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়।

 

আসামিপক্ষে মামলাটিতে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।

 

ফলে ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হলেও হাইকোর্টের রায়ের পর সেই তালিকায় এখন দুই আসামির সাজা বহাল থাকল এবং পাঁচজন খালাস পেলেন।

 

মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রহমত আলীকে হত্যা করা হয়। পরদিন ১১ নভেম্বর তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ বিচার শেষে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং ছয়জনকে খালাস দেন। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হয় হাইকোর্টে। রোববার বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসাইনের বেঞ্চ সাত আসামির মধ্যে মাসুদ রানা ও লিটন মিয়ার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অপর পাঁচজনকে খালাস দেন।