মারজুক রাসেলের বিয়ে না করার কারণ এবং জীবনদর্শন

অনলাইন ডেস্ক:

গত ১৩ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালিত সিনেমা ‘৮৪০’। এই সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা মারজুক রাসেল। তার অভিনয় নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এ আলোচনার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার এক গণমাধ্যমে নিজের জীবন ও কর্মজীবন নিয়ে কথা বলেন তিনি। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই আলোচনার মূল বিষয়গুলো।

মারজুক রাসেলকে খুব কম সিনেমায় দেখা যায়। তিনি বলেন, “আমি একাডেমিক অভিনেতা নই, তাই অনিয়মিত। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ছবিয়াল’-এ যুক্ত হওয়ার পর ১৫ বছর টেলিভিশন ও সিনেমার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ‘৮৪০’-এ অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্প এবং আমার সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তা আমাকে টেনেছে। কাজের সময় কখনো বহিরাগত মনে হয়নি।”

‘৮৪০’-এর একটি সংলাপে রাজনীতি নিয়ে তার বক্তব্যকে প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, “রাজনীতি কেবল স্থানীয় সংগঠনের কার্যক্রম নয়, এটি জীবনের প্রতিটি অংশে প্রযোজ্য। জীবনের বাইরেও রাজনীতির প্রভাব রয়েছে।”

সিনেমার প্রচারণায় প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন মারজুক। “তারা বলেছেন, ‘ভালো হইছে’, ‘ফানি’, ‘রিয়েলিস্টিক’। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। আমি প্রোফাইল চালাই না, তাই এসব সরাসরি দেখি না,” জানান তিনি।

একসময় নিয়মিত গানের কথা লিখতেন তিনি। আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, আসিফ আকবরসহ অনেক শিল্পীর জন্য লিখেছেন। বর্তমানে সেভাবে দেখা না যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “গান লিখি যখন ‘গানের কবিতা’ স্বেচ্ছায় আসে। ফরমাশে গান লিখতে পারি না। শিল্পী, সুরকার ও গীতিকবির সমন্বয় না থাকায় আগ্রহে ভাটা পড়েছে।”

ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ে না করার প্রসঙ্গে মারজুক রাসেল বলেন, “দাম্পত্য জীবন আর সংসারজীবন এক নয়। পরিবার নিয়ে আমার সংসার আছে। ১৯৯৬ সালে দাম্পত্য জীবনের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ম্যাচ হয়নি। জোর করে ম্যাচ করানোর ব্যাপারে আমি আগ্রহী নই।”

সৃজনশীল কাজের পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এখন আমি যা লিখি, তা অভ্যাসবশত। অভিজ্ঞতা, রিয়েল ইভেন্ট, কল্পনা, পাঠ, দর্শন সব মিলিয়েই কাজ হয়।”

নিজের প্রিয় লেখকদের নাম উল্লেখ করতে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। “কারও নাম উল্লেখ করে কাউকে ছোট বা বড় করার অভ্যাস আমার নেই,” জানান মারজুক।

মারজুক রাসেলের এই আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার জীবনদর্শন, কর্ম এবং ব্যক্তিজীবনের নানা দিক। দর্শক ও ভক্তদের কাছে এটি ছিল এক মুগ্ধকর অভিজ্ঞতা।