অনলাইন ডেস্ক:
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত মাত্র পাঁচ শ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের এই আদেশের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী)।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের পক্ষের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার একটি আদালত।
সময়ের আবেদনে আইনজীবী উল্লেখ করেছিলেন যে, গত ৪ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে এই মামলার আসামি পরীমণি অ্যালার্জিজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি বিধায় সময়ের প্রয়োজন ছিল। অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, এ মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত থেকে আসামিদের জামিন বাতিলের প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানালের নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন একই আদালত। এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন নাসির উদ্দিন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে এসেও তার মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে অন্যদের হয়রানির ভয় দেখান।
ঘটনার বিবরণে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। বাদী এবং তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া ১টার দিকে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদী নাসির উদ্দিনকে ডাক দেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ জানান।
একপর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল হিসেবে দেওয়ার জন্য বাদীকে চাপ সৃষ্টি করেন। বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করতে শুরু করেন।
বাদী এবং আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং নিজের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও তার দিকে নিক্ষেপ করেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পান। পরীমণি ও তার সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙচুর চালান।
এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে পরীমণি সাভার থানায় বাদীসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে সেই মামলাটি ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।











