অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে তেহরানের নির্ধারিত সকল শর্ত অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসিন রেজাইয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
ওই বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মহসিন রেজাই দেশের বর্তমান সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান সংকট থেকে উত্তরণে এ পর্যন্ত নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের খুঁটিনাটি বিষয় সর্বোচ্চ নেতাকে অবহিত করেন।
এরপর মোজতবা খামেনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধ বন্ধের এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণ ইরানি জনগণের মৌলিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি তথাকথিত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর স্বার্থও যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই মূলত তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তসমূহ মেনে চলা একেবারে অপরিহার্য।
রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করে তিনি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক কার্যক্রমে আরও সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করে সার্বিক জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরান নিজ নিজ অবস্থান থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং একটি দীর্ঘমেয়ায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে নিজেদের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে।











