অনলাইন ডেস্ক:
রমজানে সেহরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকে। সঠিক খাবার নির্বাচন করলে সারাদিন রোজা রেখে শক্তি পাওয়া যাবে এবং একই সঙ্গে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেহরিতে এমন খাবার খেতে হবে যা দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখবে, হজমে সহায়ক হবে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করবে না।
সেহরিতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি, কারণ এটি হজম হতে সময় নেয় এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। সিদ্ধ ডিম, কম তেলে অমলেট, গ্রিল বা সিদ্ধ চিকেন ও মাছ, চিনি ছাড়া টক দই এবং ভেজানো ছোলা প্রোটিনের ভালো উৎস।
জটিল কার্বোহাইড্রেট দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা কমায়। তাই লাল বা ব্রাউন রাইস, ওটস, লাল আটার রুটি, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স সিডের মতো খাবার সেহরিতে রাখা ভালো।
সঠিক পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খেলে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা লাগে না এবং এটি ভালো শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, বাদাম, চিনাবাদাম ও এভোকাডো এসব ভালো ফ্যাটের উৎস।
ফাইবারযুক্ত সবজি ও ফল হজম প্রক্রিয়া ধীর করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। শসা, গাজর, লেটুস, টমেটো কাঁচা বা সালাদ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া আপেল, নাশপাতি, বেরি ফল, ১-২টি ডুমুর বা খেজুর খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ফাইবার পাবে।
শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকলে ক্ষুধা বেশি লাগে, তাই সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি ও পানিযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। কমপক্ষে ২-৩ গ্লাস পানি, ডাবের পানি বা লেবু-পানি খাওয়া উচিত। এছাড়া চিকেন বা সবজির স্যুপ খেলে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যাবে।
ওজন কমানোর জন্য কিছু খাবার এড়িয়ে চলাও জরুরি, কারণ এগুলো দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। ভাজাপোড়া খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার, সুগার ড্রিংক, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড (সসেজ, নুডলস, ফ্রোজেন খাবার) ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভালো।
সঠিক ডায়েট মেনে চললে রমজানেও সুস্থভাবে ওজন কমানো সম্ভব। তাই সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিয়ে সুস্থ থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন।











