নিজস্ব প্রতিবেদক:
বহুল আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে বিচার বিভাগ। এ লক্ষ্যে হাইকোর্টে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এসব মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি জানান, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী রোববার (১৪ জুন) থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিলের শুনানি শুরু হবে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার বিরতিহীনভাবে চলবে।” তিনি আরও জানান, রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি তিনি নিজেই পরিচালনা করবেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে একটি বিশেষ আইনজীবী প্যানেলও গঠন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত নতুন এই বিশেষ বেঞ্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের রেফারেন্স এবং একই রায় থেকে উদ্ভূত ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করবে।
রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আদালত সোহেল রানাকে ৫ লাখ এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে অর্থদণ্ড আদায় এবং প্রয়োজনে আসামিদের সম্পত্তি নিলামের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ের পর বিচারক মাসরুর সালেকীনের স্বাক্ষরিত ডেথ রেফারেন্স গত ৯ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আশা প্রকাশ করে বলেন, রামিসা মামলাটি আগামী রোববারের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বিচার ব্যবস্থায় জনআস্থা বাড়াতে এবং সংবেদনশীল মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠনের এই পদক্ষেপকে বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











