নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। পরদিন ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা।
ইসি সচিব জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, রুহিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ভুল্লি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
এই উপনির্বাচনে মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জন নিবন্ধিত ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটগ্রহণ হবে ৯৮৯টি কেন্দ্রে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন ৩ হাজার ১৫২ কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১৮৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৯৮৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৭৮ জন পোলিং অফিসার থাকবেন।
দেশে ও দেশের বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ইসি সচিব জানিয়েছেন, দেশি ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হবে। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, দেশি ও প্রবাসী ভোটাররা যাতে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রস্তুতি চলছে।
এবারও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং থাকবে। আগের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিদেশে থাকা ৩৮৬ জন ভোটার ৩৩টি দেশ থেকে নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছিলেন সৌদি আরব থেকে। ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪ হাজার ৪৫ জন। তাদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন ২ হাজার ৭৩৫ জন।
ইসি জানিয়েছে, পূজা ও পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার পেছনে রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নেওয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই দিন থেকেই আসনটি শূন্য হয়েছে।
সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যভারকালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিনই সংসদে তাঁর আসন শূন্য হয়ে যায়।
অন্যদিকে সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সময়সীমার মধ্যেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
উপনির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও শুরু হয়েছে। আসনটি শূন্য ঘোষণার পর ৩০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনের নাম ঘোষণা করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম আলোচনায় রয়েছে।
ইসি সচিবের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হবে।











