জেলা প্রতিনিধি :
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের দাপট আরও বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।
ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে, যাদের অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় লালমনিরহাট জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ১১টা পর্যন্তও সূর্যের দেখা মেলেনি।
রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত সাত দিন ধরে তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমে ভারী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।
শীতের প্রভাবে জেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বেড়েছে। লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন আবদুল হাকিম জানান, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের ঠান্ডা থেকে রক্ষায় বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ দেন তিনি।
শীতের কারণে জীবিকার সংকটে পড়েছেন দিনমজুর ও রিকশাচালকরাও। জেলা শহরের রিকশাচালক হাদিকুল ইসলাম বলেন, “এই ঠান্ডায় মানুষ খুব কম বের হয়। তাই ভ্যান নিয়ে বসে থাকতে হয়। পরিবার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।”
আরেক রিকশাচালক রশিদ মিয়া বলেন, “কষ্ট হলেও ভোরে বের হতে হয়। এত ঠান্ডায় যাত্রী কম, তবুও পরিবার বাঁচাতে রিকশা চালাতে হচ্ছে।”
এদিকে জেলা প্রশাসন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ইতোমধ্যে ১০ হাজার শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৫০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।











