অনলাইন ডেস্ক:
লিবিয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তীব্র সংঘাত চলছে। গত মঙ্গলবারের পর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা রাজধানী ত্রিপলির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এক বিশাল আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুর পর সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। দেশটির জাতীয় ঐক্যের সরকারের (জিএনইউ) প্রেসিডেন্ট আবদুলহামিদ আল-দেবেইবাহের ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টা চলার মধ্যেই এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন (ইউএনএসএমআইএল) পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ত্রিপলির চলমান সংঘর্ষ দীর্ঘস্থায়ী হলে, রাজধানী বাইরের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার ফলে ২০২০ সালের যুদ্ধবিরতির পর লিবিয়ার শান্তি প্রক্রিয়া বড় বিপদে পড়বে।
লিবিয়ান অবজার্ভারের খবর অনুযায়ী, বুধবার সংঘর্ষের মূল কেন্দ্র ছিল ট্রিপল ফোর ব্রিগেড এবং স্পেশাল ডেটারেন্স ফোর্স (রাদা) — দুটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে। রাদা, যা ত্রিপলিতে অবস্থিত এবং প্রেসিডেন্ট দেবেইবাহের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ত্রিপলির বিভিন্ন এলাকাতে বসবাসরত লোকজন জানিয়েছেন যে, এই সহিংসতা তাদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছে। দাহরা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “এতটা ভয়ানক পরিস্থিতি কল্পনাও করিনি। গোলাবারুদের হাত থেকে বাঁচতে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছি।”
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত অভ্যুত্থানে লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মর গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটি ক্রমাগত অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। ২০১৪ সালে দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্রোহীদের কোন্দলে। তবে ২০২০ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সেই শান্তির অবস্থা হুমকির মুখে ফেলেছে।
লিবিয়ার জন্য এই সংঘাত একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শুধু দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেই নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।











