শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল সার্বিয়া, নিহত ১৫

অনলাইন ডেস্ক:

মধ্য ইউরোপের দেশ সার্বিয়া বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গত ১ নভেম্বর সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় নভি সাদ স্টেশনে ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যুর পর থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, এই দুর্ঘটনার পেছনে দুর্নীতি রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছে।

গত রবিবার সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে প্রায় ২৯,০০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির শিক্ষার্থীরা, যারা বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষকসহ সাধারণ জনগণও এতে যোগ দিয়েছেন। বিক্ষোভের শুরুতে ১৫ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় নিহত ১৫ জনের স্মরণে। এরপর ‘গর্জনের অর্ধ ঘণ্টা’ নামে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ প্রতিবেদনটি চিহ্নিত করা হয়, যেখানে কয়েক হাজার মানুষ একযোগে উচ্চশব্দে প্রতিবাদ জানান।

প্রাথমিকভাবে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ আন্দোলন নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না এবং তিনি দাবি করেছিলেন, বিরোধী পক্ষই এই আন্দোলন উস্কে দিয়েছে। তবে রবিবারের বিশাল জমায়েতের পর তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

গত সাত সপ্তাহ ধরে বেলগ্রেডে একের পর এক আন্দোলন চললেও রবিবারের জমায়েত ছিল ঐতিহাসিক। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ২৯,০০০ মানুষ এতে অংশ নেয়। ছাত্ররা এই আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছে, এবং তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে অভিনয়শিল্পী, কৃষক সংগঠনসহ অন্যান্য পেশার মানুষ।

সার্বিয়া সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে স্কুলগুলোতে শীতকালীন ছুটি বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পর সরকারের পক্ষ থেকে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে একজন মন্ত্রীও ছিলেন। তবে সম্প্রতি ওই মন্ত্রীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা জনতার ক্ষোভকে আরও তীব্র করেছে।