শেখ হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে ভারতে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতে অবস্থানরত জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে কোন স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে।

 

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আইনগত পথেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

 

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে ভারতীয় আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে বলে খবর প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না বা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে শুধু ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না, শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।”

 

চিফ প্রসিকিউটর জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। তার ভাষ্য, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

এ সময় সাংবাদিকরা ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানতে চান। জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, “দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।”

 

সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ৬১ দিন গুম রাখার পর ১০ মে তাকে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে ফেলে রাখা হয়।

 

পরে ভারতীয় পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয় এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় মামলা করে। ওই মামলায় প্রমাণিত হয়, তাকে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে গিয়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে ভারতীয় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলও খারিজ হলে তিনি মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

 

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ওই ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন চিফ প্রসিকিউটর।

 

এদিকে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।

 

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব অপরাধের দায় আসামিদের নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।