জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ :
নওগাঁর সাপাহারে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্মাণাধীন ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) স্থানীয় থানায় দাখিলকৃত অভিযোগ অনুযায়ী, সাপাহার উপজেলার মুংরইল মৌজায় ২৪ শতাংশ জমি নিয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিদ্দিকুর রহমান গং ১৪ আগস্ট ২০২৪ সালে ২৩২৭ নম্বর দলিলে জমিটি ক্রয় করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিল। গত চার মাস আগে তিনি ওই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু বাড়ির নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নানা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদান করছিল। তারা একাধিকবার তার নির্মাণাধীন বাড়ি ভাংচুরের চেষ্টা করে।
পরে, ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন হাতে লাঠি, লোহা, হাসুয়া, কোদাল, ফার্সা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির দখল নিতে তাকে ঘিরে ধরে। তারা তাকে মারপিটেরও চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রাণভয়ে সিদ্দিকুর রহমান দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন নির্মাণাধীন বাড়ির ১১টি পিলারের রড কেটে দেয় এবং টিনের ঘর ভাংচুর করে। প্রায় ১২ হাজার ইট ও ১ ট্রাক বালি লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া, তারা আব্দুল মালেকের কলা বাগানে গিয়ে প্রায় ১০০টি কলাগাছ কেটে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি সাধন করেছে। এর ফলে আনুমানিক ৩,৯৫,৫০০/- টাকা ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. রশিদুল (৬০), মো. মাহাজারুল ইসলাম (৪৫), মো. সাইদুর রহমান (৬৫), মো. হারুন (৪০), মো. আবুল হোসেন (৪৫), মো. সাদি (৪৫), মো. সেলিম হোসেন (৪০), মো. মাইনুর রহমান (৪০), মো. তসলিম উদ্দীন (৪৫), মো. সহরাব আলী (৩৫), মো. আরিফ হোসেন (৩০), মো. লিটন (২৫), মো. বাবু (৩৫), মো. ফিরোজ হোসেন (২৭), মো. মিষ্টার আলী (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন।
প্রতিপক্ষের রশিদুল হকের দাবি, তারা স্থানীয় মাদ্রাসার নামীয় জমি দখল করে নিয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আজিজ জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











