নিজস্ব প্রতিবেদক:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের বিতর্কিত রায় এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক এবার নতুন করে চাঞ্চল্যের কেন্দ্রে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হলো।
সকাল ১০টার কিছু আগে কড়া নিরাপত্তায় তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত শাহবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করে, খায়রুল হক রাজনৈতিক প্ররোচনায় বেআইনি ও জাল রায় দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিনষ্ট করেছেন।
২০১১ সালের ১০ মে খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেন, যা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়। মামলার বাদী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ী এবং পদায়নের আশায় এই রায়টি ‘ফেব্রিকেট’ করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, যেখানে শতাধিক তরুণ প্রাণ হারায়। তাঁরা দাবি করেন, খায়রুল হকের রায় ছিল একটি “রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ”।
খায়রুল হককে গত ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণ’-এর অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে রাজউক, গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় ও উপকর কমিশনের নথি তলব করা হয়েছে।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে কয়েক দফা পুনঃনিয়োগ পান। তবে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পদত্যাগ করেন।
অনেকের মতে, তাঁর বিতর্কিত রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ অভিযোগের বিচার হলে তা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনে ভূমিকা রাখবে।











