সুনামগঞ্জে ঝুঁকির ওপর ভর করে চলছে শতশত যানবাহন

জেলা প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের দৌলতা নদীর উপর অবস্থিত তেরানগর সেতু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করা হলেও, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করছে শতশত যানবাহন। সেতুটি ২০০৪ সালে নির্মিত হয় এবং ২০১৪ সালে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। তারপরও প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, নির্মাণের সময়কার ত্রুটির কারণেই ৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি ২২ বছরের মধ্যেই ভারী যানবাহনের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এখন প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মিনিট্রাক, ট্রলি এমনকি গবাদিপশুও পার হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে, বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বড় বড় গর্ত। সংকীর্ণ এই সেতু দিয়ে দুইটি যানবাহন একসঙ্গে চলতে পারে না। স্থানীয় চালক নাসির বলেন, “গাড়ি উঠলেই সেতু কাঁপে, মনে হয় এখনই ভেঙে পড়বে।”

বিগত বছরগুলোতে সেতুর কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও, তা টেকসই হয়নি। প্রতিবার সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও সেতু চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

নবীনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত চন্দ্র সরকার জানান, তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে স্কুলে আসে। “দুর্ঘটনা হলে দায় কে নেবে?”—প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দ্রুত নতুন সেতুর নির্মাণ প্রয়োজন।

স্থানীয় সাংবাদিক অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, “এই সেতুতে দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মৃত গবাদিপশুর সংখ্যা পেরিয়েছে ৫০-এর বেশি।”

ভীমখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার জানান, “সেতুটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।” তিনি অবিলম্বে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, “এই সেতুটি মূলত হেঁটে চলাচলের জন্য তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে আমরা নতুন সেতুর জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা যাবে।”