সেই লোকটা আর মিঠুনের গল্পে “বিষ্ণু সরকার”

অনলাইন ডেস্ক:

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক যুবক এবং তার মায়ের মধ্যে এক অদ্ভুত সম্পর্ক, যেখানে মায়ের প্রতি সন্তানের নির্ভরতা এবং সন্তানও মায়ের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠার অসাধারণ এক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এক দিকে, মায়ের সঙ্গেই তার পথ চলা, নতুন নতুন গন্তব্যের খোঁজ, আর অন্যদিকে, শিশু মনের এক দুর্বলতার কাহিনী, যে কোনো সময় হঠাৎ হারিয়ে যেতে পারে যদি না মা থাকে।

গল্পের এক অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটে যখন, মায়ের সঙ্গে এক নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো আর সেখানে লোকটির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর, একে অপরের মধ্যে কিছু অব্যক্ত বিষয়ের পেছনে ছুটে চলা। মায়ের মনে গভীর এক অভিমান, শিশুর অনুভূতি যা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।

এবং তারপর,তায় গাঢ় হয়ে ওঠে শিশুটির জগত। কিন্তু এর মাঝে মিঠুনের প্রবেশ—এক বন্ধু, যে এসেছে নতুন পাড়ায় এবং আবারও বিদায় নেবে সেখান থেকে। একটি তীব্র বন্ধুত্বের এবং ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের প্রেম, নতুন বাড়িতে যাওয়া এবং শিশু মনের অপরিসীম আনন্দ – সব মিলিয়ে কেমন যেন এক নিঃশব্দ শূন্যক্ষাপট, যেটি একটি শূন্যতাকে আরও গভীর করে তোলে।নতুন পাড়ায় চলে যাওয়ার গল্পে হারানো বন্ধুর সঙ্গে অনুভূতির মেলবন্ধন

গল্পের রেশ ধরে, কিভাবে মিঠুনের স্কুলের ভালো ফলাফল, খেলা এবং তার যাত্রা তার বন্ধু, তথা এই শৈশবের অদ্ভুত সরলতায় এক নতুন গল্পের জন্ম দেয়।

মায়ের স্নেহ, বন্ধুত্বের নরম অনুভূতি এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোই এখানে মূল বিষয় হয়ে ওঠে। মিঠুনের বিদায়, তার চলে যাওয়ার সময় ও গল্পের সমাপ্তি এক নীরব শোকের চিহ্ন রেখে যায়, যেখানে সবাই একে অপরকে ছাড়তে জানে না, কিন্তু তা অবধি ছেড়ে চলে যেতে হয়।

মায়ের সঙ্গে হাঁটছি। এক হাতে মায়ের শক্ত করে ধরা হাতটা অনুভব করছি। হাঁটতে ভালো লাগে, যতই পথ চলি, ততই নতুন নতুন গন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু, হারানোর ভয় নেই—মা তো আছে সঙ্গেই। নতুন পথ, নতুন জায়গা, নতুন মানুষ। এই সন্ধান, যেন কোনো কিছু হারানোর ভয় নেই। তবে কখনও যদি হারাইও, মা তো পাশে থাকবে। মায়ের হাতের অদৃশ্য শক্তি যে আমাকে সঙ্গ দেয়, তা আমার মনে থাকে।

অদ্ভুত অনুভূতি, যখন মনে হয়, কোথায় আছি, কোথায় যেতে হবে—এসব চিন্তা নেই, শুধু এগিয়ে চলি। আমি আর মা। শুধু হাঁটছি, সবার মাঝে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই।

বড় রাস্তা, বাজার, ক্রমশ ভিড় পেরিয়ে আরো এগিয়ে যাচ্ছি, এই নতুন গলিমুখে। প্রথমে যখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে খবর পেলাম, তখন বুঝলাম—এটাই লোকটা থাকতে পারে। কিন্তু, তার দেখা মেলে না। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও লোকটা ফিরে এল না। মা মনে মনে স্থির করল, কিছু একটা করতে হবে। এর শেষ দেখে ছাড়বে।

লোকটা আসল না, আর মায়ের কাঁদা চোখের দিকে তাকিয়ে শিশুটি বুঝতে পারে, কিছু একটা হল, যা হয়তো ভুল করা হয়েছে।

এর মধ্যে মিঠুনের সাথে পরিচয়। মিঠুন নতুন পাড়ায় আসছে, কিছুদিন পর চলে যাবে আবার। মিঠুনের পড়াশোনা ভালো, খেলা দারুণ, একে অপরের বন্ধু হতে বেশি সময় লাগেনি। প্রতিদিন, মিঠুন আমাকে নানা গল্প শোনাতো, আমার মনে কোনো একটি অনুভূতি বেঁধে থাকত। কিন্তু, একদিন খবর পেলাম মিঠুন চলে যাচ্ছে। বাড়ি বদলাবে।

গল্পের পরিসমাপ্তি তখনই যখন মিঠুনের চলে যাওয়ার দিন আসে, আর মাঠের খেলাতে সে আর নেই। সকলেই তখন ভাবছে, মিঠুনকে একবার বলে দিতো যদি, কিন্তু সে জানিয়ে যায়নি।

বিকেলে মা ডাকলো, আমি ফেরার পথে। কিন্তু, মনটা এতই খারাপ, কেননা আমার বন্ধুটির সাথে আর দেখা হলো না। মায়ের কাছে গিয়ে বললাম, মিঠুনের কথা। মা জানলো, আমি কতটা খারাপ লাগছিল। তবে, মা শুধু আমাকে শান্ত করে কিছু না বলে আমার হাত ধরে নিয়ে চলে গেছিল।

আর মায়ের সেই স্নেহে শিশুটি অবশেষে খেলা শেষ করে ঘরে ফিরলো, নতুন এক গন্তব্যে, নতুন এক সকাল।