স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বড় করার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির আয়োজিত এক বিশাল গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই আলটিমেটাম দেন।

সমাবেশে মো. নাহিদ ইসলাম জানান যে, গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের দলের নেতাকর্মীরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরি নাজেহাল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই।

বর্তমান প্রশাসনের নানা ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, নিজ নিজ দপ্তরের ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায়ভার নিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তাদের কর্মসূচি আরও বেগবান ও বড় করা হবে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মিছিল নিয়ে সরাসরি তারেক রহমানকে ঘেরাও করা হবে বলে তিনি হুংকার দেন।

বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি আরও দাবি করেন যে, সম্প্রতি সংবিধান সংস্কারের জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে একটি কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের কেবল দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিএনপির ভেতরে এরই মধ্যে নব্য স্বৈরাচারের বিপজ্জনক উত্থান দেখা যাচ্ছে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগামী ডিসেম্বরে নাকি পতিত স্বৈরাচার দেশে ফিরে আসবে, অথচ বিএনপি তাদের ন্যূনতম রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অতীতে বিএনপি নিজেদের নেতাকর্মীদেরই যেখানে রক্ষা করতে পারেনি, সেখানে তারা সাধারণ জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশকে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি সীমান্ত হত্যা, হিন্দুদের নিয়ে নানা চক্রান্ত এবং পাহাড়কে অশান্ত করে দেশবিরোধী অপতৎপরতা চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।