নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে, যার ফলে আগামী ৯ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই তারিখ ধার্য করেন।
এ দিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি, যার কারণে বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিরা হলেন– রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান, যাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে থাকলেও বাকিরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং সে সময় বাসায় উপস্থিত ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের একমাত্র ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।
নিহত সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে এবং রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন, আর ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন রুনির ভাই নওশের আলম।
প্রাথমিকভাবে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে এর তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব।
এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এক আদেশে স্পষ্ট জানান যে, সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত এখন থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স করবে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত হবে।
পরবর্তীতে গত ২৩ অক্টোবর উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের প্রেক্ষিতে সরকার সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে, যার আহ্বায়ক করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে।











