১৪ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, নতুন তারিখ ধার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল চৌদ্দতম বারের মতো পিছিয়ে ৭ জুন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন।

 

বিষয়টি প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান নিশ্চিত করেন।

 

গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ এই হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। পরে ১২ জানুয়ারি শুনানির দিন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ওইদিন ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেন তিনি। এরপর আদালত মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়।

 

পুনঃতদন্ত শুরু হলে মামলার প্রধান আসামি করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুই দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং পরবর্তীতে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুর পাঠানো কয়। সেখানেই চিকিসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বৃহৎ জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

 

এ মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এরই মধ্যে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। তাকে আনার চেষ্টা চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।