নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসের মধ্যে দেশে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন। বাজার স্বাভাবিক রাখতে এবং আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পণ্য আমদানিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে মার্জিন ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন গভর্নর। বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে না থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় খরচ বাড়ছে। এছাড়া ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় ঋণ পেতে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চাওয়ার বিষয়টি সহজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংক ঋণের শ্রেণিকরণের সময়সীমা ৩ মাস থেকে বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া সুদহারের বিষয়ে তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি কমে এলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুদহার আরও কমানো সম্ভব হবে।”
ডলারের বাজার প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, বর্তমানে ডলারের কোনো সংকট নেই এবং স্থানীয় বাজারে এর মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের রিজার্ভও ধীরে ধীরে বাড়ছে। তিনি বলেন, “ডলারের মূল্য আমদানি ও চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, বাংলাদেশ ব্যাংক এটি নির্ধারণ করবে না।”
গভর্নর আরও জানান, দেশের বাইরে ব্যবসায়িক অফিস খোলার শর্তাবলি শিথিল করার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে।











