অনলাইন ডেস্ক:
গাজার বাসিন্দারা যখন ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই ইসরায়েলের বর্বর বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে পুরো উপত্যকা। মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণে ধ্বংস হয়ে যায় আবাসিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শরণার্থী শিবির। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের (১৮ মার্চ) এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়েছেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই হামলায় ১০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র রোসালিয়া বোলেন বলেন, “ফিলিস্তিনি শিশুরা যুদ্ধের ধকল সহ্য করছে। তাদের জীবন এভাবে হুমকির মুখে পড়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে আত-তলিবিন নামের একটি স্কুলে বাস্তুহারা নারী ও শিশুরা আশ্রয় নিয়েছিল। ইসরায়েলি বিমান হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে স্কুলটি। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
নতুন করে এই হামলা শুরু হওয়ার ফলে দুই মাসের অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল হামাসের কাছ থেকে বাকি জিম্মিদের মুক্ত করতে আরও বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ২৫০ ইসরায়েলি জিম্মি হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৫৯ জন এখনও সশস্ত্র গোষ্ঠীটির দখলে রয়েছে। হামাস অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দিতে রাজি না হওয়ায় ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এদিকে, হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলাকে ‘নিবৃত্তিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং জানিয়েছে, হামাসের সামরিক কমান্ডার, শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অবকাঠামো তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু।
নতুন দফার হামলায় হামাসের রাজনৈতিক শাখার দীর্ঘদিনের সদস্য ও গাজার প্রশাসনিক কমিটির প্রধান ইসাম আল-দালিস নিহত হয়েছেন। এছাড়া, উপ-বিচারমন্ত্রী আহমেদ আল-হাত্তা এবং উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আবু ওয়াতফাও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
গাজার বাসিন্দারা নতুন করে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ৬৫ বছর বয়সী রাবিহা জামাল বলেন, “এটা যেন রাতের অন্ধকারে নরকের আগুন জ্বলে উঠেছে। যুদ্ধের প্রথম দিনের মতোই হামলা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সেহরি খাওয়ার জন্য আমরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখনই বিস্ফোরণ শুরু হয়। ভবনগুলো কেঁপে উঠতে থাকে। আমরা ভেবেছিলাম যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তা আবার ফিরে এলো!”
রমজান মাসেও ইসরায়েলের এই নৃশংস হামলায় নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফিলিস্তিনিরা। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চলছিল, তাও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।











