অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গতকালের ম্যাচটি ছিল এক রূপকথার মতো, যেখানে আজিজুল হক তামিমের দুর্দান্ত শতরানে ভর করে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব শক্তিশালী প্রাইম ব্যাংককে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে। তামিমের অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ফলে গুলশান জয় নিশ্চিত করেছে এবং সুপার সিক্সে নিজেদের স্থান পাকা করেছে। অন্যদিকে, এই হারের ফলে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে বিদায় নিতে হলো প্রাইম ব্যাংককে।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাইম ব্যাংক। উদ্বোধনী জুটিতে নাঈম শেখ (২৬ বলে ৩৬) ও সাব্বির হোসেন (১৮ বলে ২২) মিলে ভালো সূচনা করেন। তবে মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকতা রাখতে ব্যর্থ হন অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা।
ইনিংসের ভরসা হয়ে উঠেন সাজ্জাদুল হক রিপন। ৭৩ বল খেলে ৫১ রান করেন তিনি। তার সঙ্গে উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইরফান শুক্কুর ৭৪ বলে ৪৩ রান করেন। কিন্তু বাকিরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাইম ব্যাংক নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২০৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।
গুলশানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মেহেদী হাসান। ৩৫ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নেন। এছাড়া আসাদুজ্জামান পায়েল, নিহাদুজ্জামান ও নাঈম ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।
২০০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব দুর্দান্ত শুরু করে। ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও আজিজুল হক তামিমের ৭১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শুরুতে গতি ছিল। জাওয়াদ ৩৩ রানে আউট হলেও তামিম ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে।
১০৬ বলের অসাধারণ ইনিংসে তামিম হাঁকান ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা। তার সেঞ্চুরি ছিল এক নিখুঁত মুহূর্ত, যেটি শেষ পর্যন্ত ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন। ১০৫ রান করে তামিম ফিরে গেলেও গুলশানের জয়ের পথ তখন মসৃণ হয়ে যায়।
খালিদ হাসান পরবর্তী সময়ে ঝড়ো ৩৪ বলে ৩৮ রান করে দলের জয় আরও নিশ্চিত করেন। সাকিব শাহরিয়ার ও ফরহাদ রেজা ৭৭ বল হাতে রেখেই জয় এনে দেন। গুলশান ৫ উইকেটে জয় পায়।
প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন নাঈম আহমেদ, যিনি ২ উইকেট নেন। তবে তামিম ও খালিদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ের কাছে তার বোলিং যথেষ্ট ছিল না।
এই জয় দিয়ে গুলশান ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় ৩ নম্বরে উঠে এসেছে এবং সুপার সিক্স পর্বে স্থান করে নিয়েছে। আবাহনী, মোহামেডান, গুলশান, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ, গাজী গ্রুপ ও অগ্রণী ব্যাংক এই ছয় দল শিরোপার জন্য লড়বে।
অন্যদিকে, নিয়মিত শীর্ষে থাকা প্রাইম ব্যাংক এবার লিগ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়েছে। এই বিদায় যেন গুলশানের মতো নতুন শক্তির উত্থানকে প্রতিফলিত করে, যেখানে সম্ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।











