বিমানবন্দর থেকে ডিবি কার্যালয়, নায়িকা ফারিয়ার গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ নুসরাত ফারিয়াকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ মে) সকালে থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ডিবি সূত্র জানায়, সোমবার (১৯ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
মামলার নথিপত্র অনুসারে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি আবেদন করেন, যার ভিত্তিতে ভাটারা থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা রেকর্ড করা হয়। এই মামলায় নুসরাত ফারিয়াসহ মোট ১৭ জন অভিনয়শিল্পীকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন দমন করতে অর্থ সহায়তা করেছিলেন তারা।
মামলার বাদী এনামুল হক দাবি করেছেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে অন্য আসামিদের গুলিতে আমি আহত হই এবং রাস্তায় পড়ে যাই।” এজাহারে আরো বলা হয়েছে, নুসরাত ফারিয়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষে অর্থ সাহায্য করেছেন এবং আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন হক জানান, “রোববার সকাল ১১টার দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ নুসরাত ফারিয়াকে আটক করে। এরপর থানা পুলিশ বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের সুবিধার্থে তাকে সরাসরি ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।”
২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘আশিকী’ ছবির মাধ্যমে নুসরাত ফারিয়ার অভিনয়জীবন শুরু হয়। এক দশকের ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে এই সাম্প্রতিক ঘটনায় তার ক্যারিয়ার নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার (১৯ মে) আদালতে তোলার পর তার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
