অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র হজের মৌসুমে মুসল্লিদের গরম থেকে রক্ষা করতে কাবা চত্বরে বসানো হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে আসা লাখ লাখ হজযাত্রীর জন্য এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৌদি আরবে বর্তমানে তীব্র গ্রীষ্মকাল চলছে। মরু অঞ্চলের দেশটিতে প্রতিদিনই তাপমাত্রা ছাড়াচ্ছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইতোমধ্যে গরমজনিত রোগে ভুগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ৪৪ জন। এমন বাস্তবতায় হজযাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করতে কাবা ও মসজিদে নববির তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা দ্য জেনারেল অথরিটি ফর দ্য অ্যাফেয়ার্স অব দ্য টু হোলি মস্কস এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই শীতাতপ যন্ত্রের দুইটি প্রধান ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটির শীতলীকরণ ক্ষমতা ১ লাখ ২০ হাজার টন এবং দ্বিতীয়টির ৩৫ হাজার টন। এই দুইটি ইউনিট যথাক্রমে শামিয়া এবং আজিয়াদ স্টেশনে স্থাপন করা হয়েছে-যেখানে হজের সময় মুসল্লির ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে।
সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই এসি ইউনিটগুলো কেবল শীতল বাতাস সরবরাহই করবে না, বরং বাতাসে থাকা জীবাণু ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত দূর করতেও সক্ষম। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসবে। মূলত কাবা চত্বরের ছাদঘেরা এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে স্থির রাখাই হবে এই যন্ত্রের প্রধান কাজ।
এই উদ্ভাবনী উদ্যোগের ফলে হজযাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে আরামদায়ক পরিবেশে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করতে পারবেন। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজের পুরো সময়জুড়ে এই এসি ব্যবস্থা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ পালন করতে প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবে আসেন। এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (৪ জুন)। সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এখন পর্যন্ত ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী দেশটিতে পৌঁছেছেন।
এই বিপুলসংখ্যক মানুষের আরাম নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নজরকাড়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে কাবা চত্বরে সর্ববৃহৎ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার এই স্থাপনাকে। এটি শুধু মুসল্লিদের গরম থেকে রক্ষা করবে না, বরং ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাতেও এক নতুন মানদ- তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।










