সুন্দরবনে আবারও বেড়েছে বনদস্যু দস্যুতা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জেলেরা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে ফের দস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। কয়েক বছর স্বস্তির পর নতুন করে জেলেদের অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ—যা খুলনার কয়রা, দাকোপ এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত—সেখানে আবারও গড়ে উঠেছে একাধিক বনদস্যু বাহিনী। স্থানীয় বনজীবী ও জেলেরা জানান, ‘দয়াল বাহিনী’, ‘আসাবুর বাহিনী’, ‘শরীফ বাহিনী’, ‘আব্দুল্লাহ বাহিনী’ ও ‘মঞ্জুর বাহিনী’ নামের কয়েকটি নতুন গোষ্ঠী বনজুড়ে তৎপরতা চালাচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মাসে অন্তত ২০ জনের বেশি জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের পর দাবি করা হয়েছে ১০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ। দয়ালবাবা বাহিনী সম্প্রতি শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ১৫ জেলেকে অপহরণ করে, যারা পরে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পান।

জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সুন্দরবনের ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল। এরপর ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করে। তবে স্থানীয়দের মতে, সেই দস্যুরা এখন আবার পুরোনো পেশায় ফিরেছে।

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মজনুবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বড় অংশ এখন দয়ালবাবার হাতে চলে গেছে। তাদের মধ্যে ৫৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ছয় মাসের জন্য সুন্দরবনের একটি অংশের দখল হস্তান্তর হয়। দয়ালবাবা বাহিনীর নয় সদস্যের মধ্যে চারজনই পূর্বে আত্মসমর্পণ করা দস্যু ছিলেন, যারা সরকার থেকে সুবিধা নিয়েছেন।

জেলেদের অভিযোগ, তারা ট্রলারে মাছ ধরতে গেলে অস্ত্রধারীরা হানা দিয়ে মোবাইল, টাকা ও মাছ ছিনিয়ে নেয়। চাঁদা না দিলে চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। কেউ কেউ বলেন, মুক্তিপণের টাকা না দিলে দস্যুরা তাদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে, এমনকি নদীতে ফেলে দেয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ১২ মাসের মধ্যে পাঁচ মাস সরকারিভাবে সুন্দরবনে কর্মতৎপরতা বন্ধ থাকে। বাকি সাত মাসের আয়ে মহাজন, চাঁদাবাজ ও দস্যুদের ভাগ দিতে গিয়ে বনজীবীদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম জানান, “সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে ভাসমান বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌবাহিনী ও বন বিভাগের তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি অপরাধীরা শিগগিরই দমন হবে।”