জেলা প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী, বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টির পর থেমে থেমে চলছে বৃষ্টি। ফলে নগরীর নিচু এলাকাগুলো পানিতে ডুবে যায়। মেহেদীবাগ, জিইসি, চকবাজার, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, কাতালগঞ্জ, জামাল খানসহ অন্তত ১৫টি এলাকায় সড়কে বৃষ্টির পানি ও জোয়ারের পানি মিশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাস, সিএনজি, রিকশার সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে অনেক চালক দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
কাপাসগোলা এলাকার এক অভিভাবক জানান, “মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে উঠতে হয়েছে।”
কাজীর দেউড়ির বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা শাহনুর সুলতানা বলেন, “অফিসে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা লেগেছে। রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম আর পানিতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ।”
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। কেউ রিকশা না পেয়ে হেঁটে কেন্দ্রে গেছেন, কেউ ভেজা কাপড়ে পরীক্ষা দিয়েছেন।
সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা শাহরিয়ার নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, “ছাতা নিয়েও কোনো লাভ হয়নি। রিকশা পাচ্ছি না, রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে পুরো ভিজে গেছি। এ অবস্থায় পরীক্ষা দিচ্ছি।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ হতাশা, কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫৬.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আমবাগান কেন্দ্রে রেকর্ড করা হয় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি।
এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) দাবি করেছে, আগের তুলনায় এখন জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। বৃষ্টি থেমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যায়।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে, দ্রুত ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ এখনো প্রয়োজন।











