অনলাইন ডেস্ক:
শরীরচর্চা মানেই স্বাস্থ্যকর জীবন—এ ধারণা আজ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। কিন্তু সম্প্রতি রক ব্যান্ড ‘ওইনড’-এর ভোকালিস্ট এ কে রাতুল শরীরচর্চার সময় আকস্মিক স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে: শরীরচর্চা কি সবসময় নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল পদ্ধতিতে, না জেনে বা দেহের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করলে তা হতে পারে মারাত্মক ক্ষতির কারণ। অতিরিক্ত ব্যায়ামে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, পানিশূন্যতা, পেশি ক্ষয় বা ‘র্যাবডোমায়োলাইসিস’, এমনকি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকিও বাড়ে।
সতর্কতার লক্ষণ
শরীরচর্চার সময় নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা গেলে অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে:
মাথা ঘোরা, বুকে চাপ
অতিরিক্ত ঘাম বা শ্বাসকষ্ট
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়া
হাত-পা অবশ লাগা বা দুর্বলতা
এ ধরনের উপসর্গ স্ট্রোক বা হৃদরোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
জরুরি করণীয়
১. ব্যায়াম বন্ধ করুন
২. শুয়ে বা বসে বিশ্রাম নিন
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন (কিন্তু বেশি নয়)
৪. পরিবার বা জিম কর্তৃপক্ষকে জানান
৫. লক্ষণ স্থায়ী হলে হাসপাতালে যান
ব্যায়ামের আগে যেসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুরু করুন।
ভারী ব্যায়ামের আগে ওয়ার্ম-আপ জরুরি।
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম অত্যাবশ্যক।
ব্যথা বা অসুস্থ অবস্থায় ব্যায়াম নয়।
না জেনে জিম মেশিন ব্যবহার করবেন না।
ফিটনেস মানে শুধু বাহ্যিক পেশি নয়, বরং নিজের শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সুস্থ হয়ে ওঠা। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শরীরচর্চা অবশ্যই চালিয়ে যেতে, তবে তা যেন হয় সচেতনতা ও নিজের শরীরকে বোঝার মাধ্যমে।











