ভাড়াবাড়ি বিতর্কে পদত্যাগ করলেন রুশনারা আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভাড়াবাড়ি নিয়ে বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের গৃহহীনতা-বিষয়ক মন্ত্রী ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। লন্ডনের ব্যক্তিগত একটি ফ্ল্যাটে রাতারাতি ভাড়া ৭০০ পাউন্ড বাড়ানো এবং আগের ভাড়াটিয়াকে সড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আই পেপার’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। সেখানে বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পূর্ব লন্ডনের বাড়িটির ভাড়াটিয়াকে জানানো হয়, ফ্ল্যাটটি বিক্রি করা হবে, তাই চুক্তি নবায়ন হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বাড়িটি আগের ভাড়ার চেয়ে ৭০০ পাউন্ড বেশি ভাড়ায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
এ নিয়ে আবাসন অধিকার সংস্থা ও বিরোধী দলগুলো রুশনারার নৈতিকতা ও দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বুধবার সন্ধ্যায় ব্যাপক সমালোচনার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।
যুক্তরাজ্যে আসন্ন ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষাবিষয়ক আইন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভাড়া বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা বেআইনি হবে। এই আইন পাস হওয়ার আগেই এমন ঘটনা, একজন হাউজিং মিনিস্টারের দ্বারা ঘটায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক এই ঘটনাকে “ভণ্ডামি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
রুশনারা তার পদত্যাগপত্রে লেখেন, “আমি সব আইনি শর্ত মেনে চলেছি এবং দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই বিতর্ক সরকারের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে—এ কারণে আমি নিজ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার পদত্যাগ গ্রহণ করে রুশনারার দীর্ঘ সময়ের সেবার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি ভবিষ্যতেও সরকারকে সমর্থন দেবেন।
উল্লেখ্য, রুশনারা আলী ২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে ব্রিটিশ এমপি নির্বাচিত হন এবং টানা পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তার জন্ম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। মাত্র সাত বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে রাজনীতি, অর্থনীতি ও দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেন।
এর আগে আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও ব্যক্তিগত বিষয়ে সরকারের ভেতর থেকে পদত্যাগ করেন। এ ঘটনাগুলো হাউজিং ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রবল বিতর্ক তৈরি করেছে।
