ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করেই সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা: পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঁদাবাজি নয়, বরং ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অপরাধ উত্তর) মো. রবিউল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “তুহিন হত্যার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তাকে মৃত অবস্থায় পাই। এরপর আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি।”
সেই ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী রাস্তায় এক পুরুষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে সেই পুরুষ তাকে আঘাত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত ৪-৫ জন লোক চাপাতিসহ এসে ওই পুরুষকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে জানা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম বাদশা মিয়া এবং তিনি বর্তমানে জয়দেবপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন সাংবাদিক তুহিন। এই ভিডিও দেখে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে ভিডিও ডিলিট করার দাবি জানায়। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় বা অস্বীকার করায় সেখানেই তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
রবিউল ইসলাম আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, একটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনার ভিডিও ধারণ করার জেরেই সাংবাদিক তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
তুহিন হত্যাকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা অভিযুক্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।
এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
