জেলা প্রতিনিধি :
নওগাঁর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরিষা খেতে ফুল আসার সঙ্গে সঙ্গে মৌচাষিদের মৌ বাক্স স্থাপন শুরু হয়েছে। সরিষার ফুলে মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে একদিকে উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে মধু সংগ্রহ করে বাড়তি আয় করছেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৩০০টি মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে ২৭০ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
নওগাঁ সদর, মান্দা, রাণীনগর, আত্রাইসহ ১১টি উপজেলায় সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌচাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষত মান্দা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মৌ বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ বেশি হচ্ছে।
মান্দা উপজেলার সাটইল গ্রামের মৌচাষি আবু বক্কর সুজন জানান, তিনি ৩০০টি বাক্স থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করেছেন। সরিষার ফুল ফুরিয়ে গেলে অন্য মাঠে চলে যাবেন তিনি। আরেক মৌচাষি হুমায়ুন কবির জানান, গত বছর ১০০টি বাক্স থেকে ১৩ লাখ টাকার মধু বিক্রি করেছেন। এবার তিনি ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন।
কৃষকদের মতে, ভোজ্যতেলের উচ্চমূল্য ও সরিষার ভালো বাজারদরের কারণে তারা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করায় সরিষার আবাদে উৎসাহ বেড়েছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নওগাঁতে সমন্বিতভাবে সরিষা ও মৌচাষের মাধ্যমে কৃষক ও মৌচাষিরা লাভবান হচ্ছেন। মধু সংগ্রহ ও সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি, উভয় দিক থেকেই এ পদ্ধতি সফলতা পেয়েছে। সরিষা খেতের পাশে মৌ বাক্স স্থাপন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”
সরিষা ও মধু চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি নওগাঁর কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশা করছে, আগামী মৌসুমগুলোতে এই পদ্ধতি আরও বিস্তৃত হবে।











