অনলাইন ডেস্ক:
কঙ্গনা রানাউতের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ইমার্জেন্সি’ অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। তবে বিতর্ক যেন ছবিটির পিছু ছাড়ছে না। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করা এই ছবি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছবিটি ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে ১৯৭৫ সালে ভারতে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটে নির্মিত। এতে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এক অন্ধকার সময়। ছবিতে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সহযোগিতা করার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ছবিটির কিছু বিষয়বস্তু বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণেই বাংলাদেশে ছবিটির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র বাজার। সেখানে ছবিটি মুক্তি না পাওয়ায় এর আর্থিক আয়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে ছবিটি নিষিদ্ধ করার পেছনে দুই দেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার ভূমিকা রয়েছে।
‘ইমার্জেন্সি’ পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা করেছেন কঙ্গনা রানাউত নিজেই। এটি তার পরিচালিত প্রথম ছবি। শুরু থেকেই নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সেন্সর বোর্ডের আপত্তি থেকে শুরু করে সম্প্রদায়গত সমালোচনা, সবকিছু মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ছবিটি অবশেষে মুক্তির পথে।
মুক্তির আগে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন কঙ্গনা। ছবিটি দেখার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ভারতের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়কে সৎ ও উৎকৃষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে এই সিনেমা। সবাইকে এই ছবি দেখার জন্য তিনি অনুরোধও জানিয়েছেন।
কঙ্গনা জানিয়েছেন, ছবিটির নির্মাণ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এত বাধা পেরিয়ে ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তি পেলেও ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা তার নেই। ছবির মুক্তি তাকে যেমন গর্বিত করেছে, তেমনি এই যাত্রা তার জন্য দুঃসহ অভিজ্ঞতাও হয়ে থাকবে।











