নিজস্ব প্রতিবেদক:
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের নীতিগত সংকট, শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর ট্রাস্টি জাভেদ হোসেন স্পষ্ট ও কাঠামোগত অবস্থান তুলে ধরেছেন। রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে তিনি এপিইউবি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশ নেন।

বৈঠকে আইইউবির পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাভেদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউজিসি একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে, যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একই খেলায় রেফারি কখনো খেলোয়াড় হতে পারে না”—নিয়ন্ত্রক ও পরিচালকের ভূমিকার মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন থাকা জরুরি।
আইইউবি ট্রাস্টি জাভেদ হোসেন বাংলা মাধ্যম থেকে আগত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতির মান নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইইউবির ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে—উচ্চ এইচএসসি জিপিএ অর্জন করলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত মানে পারফর্ম করতে পারছে না। তিনি বলেন, এই বৈপরীত্য শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে একটি কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়, যা নীতিগত ও পাঠ্যক্রমভিত্তিক সংস্কারের দাবি রাখে।
এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন মন্তব্য করেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা একমাত্র পথ হওয়া উচিত নয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার আগেই কর্মোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয় ভবিষ্যৎ দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার কাঠামো নিয়ে। একটি জাতীয় স্কিলস ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাবের আলোকে আইইউবির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে স্নাতক শিক্ষার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগে আইইউবি কৌশলগতভাবে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বৈঠকে এপিইউবির নেতারা এর বিরোধিতা করেন। তবুও ভবিষ্যতে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে আইইউবির জন্য এর একাডেমিক, নিয়ন্ত্রক ও কৌশলগত প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই বৈঠকে আইইউবি ট্রাস্টি জাভেদ হোসেনের বক্তব্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা সংস্কারের প্রশ্নে একটি সুসংহত ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।











