নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোটচাঁদপুর বাজার পাড়ার হাইস্কুল সড়কের বাসার নিজ কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, অনন্য শনিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন। রাতের খাবার শেষে তিনি নিজের ঘরে ঘুমাতে যান। রোববার সকাল ৮টার দিকে নাস্তা খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দেন তাঁর মা। তখন ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অনন্যকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
অনন্য গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর এলাকার সাবেক প্রভাষক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলীর ছেলে। তাঁর মা রাধা রানী গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক। পরিবার জানায়, বাড়িতে ফেরার পর অনন্যের আচরণ স্বাভাবিক ছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কোনো বিষয়ে মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেনি।
মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে অনন্য ছোটবেলা থেকেই পরিচিত ছিলেন। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে ভালো ফলের পাশাপাশি তিনি বৃত্তিও লাভ করেন। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে যশোর বোর্ড থেকে সাধারণ বৃত্তি অর্জন করেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কলেজে পড়ার সময় শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল অনন্যকে। তবে সব বাধা কাটিয়ে আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরেছিলেন তিনি। অনন্যের মা রাধা রানী গাঙ্গুলী বলেন, “সে বাড়ি আসার পর আগের মতোই আচরণ করেছে। কেন এমন ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারছি না।”
কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।











