ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন 📢 Google AdSense — 728 × 90 Leaderboard Placement

৬ লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে ইতিহাস গড়ল ১৯৯তম ঈদ জামাত

প্রকাশিত: 21 March 2026, 10:05 pm
ফন্ট:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভোরের কুয়াশা ভেদ করে পুব আকাশে সূর্য ওঠার আগেই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে। দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন এই ঈদগাহে এবার স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ সমাগম ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাতে দেশ-বিদেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা প্রায় ৬ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একসঙ্গে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেছেন।

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিট আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়।

 

জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, এবারের উপস্থিতি বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই বিশাল জামাত সম্পন্ন হয়েছে। এটি শোলাকিয়ার ইতিহাসে অন্যতম এক নজিরবিহীন অধ্যায়।”

 

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং অগ্রগতির পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। জামাতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলামসহ স্থানীয় পদস্থ কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। মূল ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় কয়েক লাখ মুসল্লি পার্শ্ববর্তী রাস্তা, নিকটস্থ ভবনের ছাদ, এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়েও নামাজে শরিক হন। ভ্রাতৃত্ব আর ঐক্যের এই মহামিলনমেলা আবারও প্রমাণ করল কেন শোলাকিয়াকে বলা হয় উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক চেতনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

মন্তব্য করুন